ঢাকা সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ , ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমিরাতে দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের মুক্তিতে আপিলের উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
২ বছর আগে
আমিরাতে দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের মুক্তিতে আপিলের উদ্যোগ
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ কারণে ৫৭ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন দেশটির আদালত। এবার তাদের মুক্তির বিষয়ে কাজ করতে আইনজীবী ওলোরা আফরিনকে নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার (১২ আগস্ট) মিশন চিফ মুহাম্মদ মিযানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়। এ বিষয়ে আইনজীবী ওলোরা আফরিনকে সাহায্য করবে সংযুক্ত আমিরাতের বাংলাদেশ দূতাবাস।

আইনজীবী ওলোরা আফরিন গত ৬ আগস্ট দুবাইয়ে প্রবেশ করেন। ইতিমধ্যে তিনি বাংলাদেশের ফরেন এপেয়ার্সে ই-মেইল করে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। এখন ফিরতি মেইলের অপেক্ষা। ওলোরা আফরিন জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীদের ছাড়াতে আপিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আপিলের জন্যে জনপ্রতি তিন হাজার দেরহাম যা বাংলাদেশি টাকায় জনপ্ররতি প্রায় ৯৬ হাজার টাকার মত লাগবে। সেক্ষেত্রে  করে ৫৭ জনের জন্যে বাংলাদেশি মুদ্রায় লাগবে ৫৪ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হবে। এই ব্যাপারে রাস্ট্রদূতকেও অবহিত করা হয়েছে। আপিলের এই খরচ সরকারি ভাবে করতে গেলে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই আর্থিক সহযোগিতায় তিনি শাস্তিপ্রাপ্ত প্রবাসীদের পরিবারের সহযোগিতার কথা বলেন। তারা যদি অপারগতা দেখায় সেই ক্ষেত্রে বিত্তশালীদের সহযোগিতা করতে হতে পারে বলে জানান তিনি।  এছাড়াও তিনি জানান ৫৭ জনের বাইরে জেল কর্তৃপক্ষ আরো একশত জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। যাদের ব্যাপারে এখনো কোন আইন প্রয়োগ বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   

বাংলাদেশের দুটি মিশনের রাষ্ট্রদূত আবু জাফর এবং কনসাল জেনারেল বি.এম.জামাল জানিয়েছেন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীদের মুক্ত করতে ওলোরা আফরিনকে তারা সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করবেন।  যেহেতু আমিরাতের আইন লঙ্গন করে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে, তাই কিছুটা আইনি জটিলতাও আছে বলে জানান দুই মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।  

আমিরাতে দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তিতে দুই প্রক্রিয়াতে পুরো বিষয়টি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত। প্রথমত আপিল করার পর হাই কোর্টে যেতে হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসবে। একই সঙ্গে মিশন থেকেও ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি। দ্বিতীয়ত আরো দ্রুত হওয়ার জন্যে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনুসের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলার পক্রিয়াটার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।  

তবে বর্তমানে আমিরাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটিতে দেশের বাইরে থাকায় প্রসেসিং টা কিছুটা বিগ্ন ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত জানান এই মাসের শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ দেশে ফিরবেন। তখন কোন একটা জানাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।


কমেন্ট বক্স